পারমাণবিক আলোচনা বিলম্বিত
রবিবার একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে স্থগিত রাখার কথা বলেছে।
অ্যাক্সিওস নিউজ সাইটের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।
গণমাধ্যমটির খবর অনুযায়ী, সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে মতবিরোধ এড়িয়ে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সামুদ্রিক যান চলাচল পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়ে একটি দ্রুত চুক্তি করা। এই প্রস্তাবের অধীনে, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ানো হবে বা স্থায়ী করা হবে এবং হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়া ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরেই কেবল পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং আলোচনা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে যে হোয়াইট হাউস প্রস্তাবটি পেয়েছে, কিন্তু এটি নিয়ে অগ্রসর হবে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অচলাবস্থা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি সিচুয়েশন রুম বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে তিনি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রাখাকেই শ্রেয় মনে করেন।
তিনি বলেন, “যখন আপনার কাছে বিপুল পরিমাণ তেল থাকে…যদি এই পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়…তাহলে সেই পথটি ভেতর থেকে বিস্ফোরিত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ার আগে ইরানের হাতে হয়তো মাত্র “প্রায় তিন দিন” সময় আছে।
এ সপ্তাহ শেষে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়। সেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রণালীটিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং ওমানের মাস্কাটে আলোচনা করেন।
তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার জন্য সোমবার ভোরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, “এগুলো সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা…ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।”
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনা করেছিল, কিন্তু তাদের সংঘাতের অবসানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হয়, যা পরে ট্রাম্প বাড়িয়ে দেন।
যদিও পরবর্তী দফা আলোচনার জন্য প্রচেষ্টা চলছে, তবে হরমুজ প্রণালী, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।