ভারতের উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলায় এক ব্যতিক্রমী ও মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী কোটায় সুযোগ পাওয়ার আশায় এক ছাত্র নিজের পায়ের একটি অংশ কেটে ফেলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি। জৌনপুরের লাইন বাজার থানায় আহত তরুণের ভাই আকাশ ভাস্কর ফোন করে জানান, তাঁর ভাই সুরজ ভাস্কর বাড়িতে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মামলা নেয় এবং তদন্ত শুরু করে। আহত সুরজ ভাস্করকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রথমে বারাণসীর বিএইচইউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জৌনপুরের পার্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তে পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জৌনপুর সার্কেল অফিসার (সিও) গোল্ডি গুপ্তা নিশ্চিত করেছেন, ঘটনার সঙ্গে বাইরের কারও সম্পৃক্ততা নেই।
মানসিক চাপ থেকেই এই সিদ্ধান্ত
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সুরজ ভাস্কর একজন এমবিবিএস পড়ার আগ্রহী ছাত্র। বারবার চেষ্টা করেও মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে না পারায় তিনি চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
জৌনপুর সিও গোল্ডি গুপ্তা বলেন,
“তদন্তে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে সুরজ ভাস্কর গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই মানসিক অবস্থাতেই তিনি নিজেই নিজের পায়ে আঘাত করেন।”
আরেক ঘটনায় বিটেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
এদিকে একই দিনে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ঝাঁসির বাসিন্দা ও বিটেকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র উদিত সোনি গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক এলাকায় একটি হোস্টেল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বন্ধুদের সঙ্গে হোস্টেলে ফেরার সময় উদিত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। হোস্টেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে তিরস্কার করে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে তাঁর বাবার কাছে পাঠান।
ভিডিওটি দেখার পর উদিতের বাবা বিজয় সোনি ফোনে ছেলেকে কড়া ভাষায় বকাঝকা করেন এবং হোস্টেল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এতে মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন ওই ছাত্র।
শনিবার ভোরের দিকে তিনি চারতলা ভবন থেকে নিচে লাফ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) সুধীর কুমার জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।