বিডিএক্সপ্রেস | bdexpress.news | খবর, সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, বিডিনিউজ, বাংলা নিউজ | News, latest news, breaking news
প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫৪ অপরাহ্ণ

রাশিয়ার হাতে নতুন পারমাণবিক অস্ত্র, পুতিনের হুমকি

লেখক: বিডিএক্সপ্রেস ডেস্ক
রাশিয়ার পসাইডন টর্পেডো

ইউক্রেইন যুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রবীণ সেনাদের সঙ্গে গত বুধবার সাক্ষাতের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি নতুন অস্ত্র পরীক্ষার কথা ঘোষণা করেছেন।

তিনি জানান, রাশিয়া সফলভাবে ‘পসেইডন’ নামের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সুপার টর্পেডো পরীক্ষা চালিয়েছে। পুতিন বলেন, “এর মতো অস্ত্র আর কোথাও নেই।”

এই অস্ত্র মূলত একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত, পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন পানির নিচের ড্রোন যেটি টর্পেডোর মতো ছোড়া যায়। রুশ পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্যের ভাষায়, “পুরো একটি দেশকে অচল করে দিতে সক্ষম এই অস্ত্র।”

২০১৮ সালে প্রথম এই অস্ত্রের কথা প্রকাশ্যে আসে। সে সময় রুশ গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, পসেইডন ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং এটি এমনভাবে রুট পরিবর্তন করতে পারে যে তাকে ঠেকানো অসম্ভব।

এই অস্ত্রের আগে গত ২১ অক্টোবর বুরেভেস্তনিক নামের নতুন একটি পারমাণবিক শক্তি চালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। তাদের দাবি, এ অস্ত্র বিশ্বের যে কোনও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

রাশিয়ার বলছে, “বুরেভেস্তনিকের পাল্লা অসীম। এটি এক অনন্য অস্ত্র, যা আর কোনও দেশের কাছে নেই।”

তবে রাশিয়ার জন্য নতুন অস্ত্র পরীক্ষা করা বা সেগুলোর প্রচার করা নতুন কিছু নয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃতপক্ষে এসব অস্ত্রের সামরিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন আছে।

রাশিয়া বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্যালিওটি বিবিসি-কে বলেন, “এসব মূলত বিশ্বকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ‘আর্মাগেডন অস্ত্র’। এসব অস্ত্র বিশ্বকে ধ্বংস করতে চাইলে কেবল তখনই ব্যবহার করা যায়।”

গ্যালিওটি জানান, পসেইডন ও বুরেভেস্তনিক দুটি এই ধরনের অস্ত্র। সেইসঙ্গে এগুলো ‘সেকেন্ড-স্ট্রাইক’ অস্ত্র, যা প্রতিশোধমূলক ব্যবহারের জন্য তৈরি।

তবে এই অস্ত্রগুলোর কার্যকরিতা নিয়ে সন্দেহ আছে। ২০১৯ সালে একটি রকেট ইঞ্জিন বিস্ফোরণে পাঁচ রুশ পারমাণবিক প্রকৌশলী মারা গিয়েছিলেন। কয়েকজন রুশ ও পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই রকেট ইঞ্জিনের সঙ্গে বুরেভেস্তনিকের যোগ ছিল।

দুইবছর পর লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (আইআইএসএস) জানায়, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পারমাণবিক প্রোপালশন ইউনিটের কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করা নিয়ে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে আছে রাশিয়া।

পসেইডন ও বুরেভেস্তনিক কোনটিই পুরোপুরি নতুন নয়। ২০১৮ সালে পুতিন নতুন অজেয় অস্ত্রের তালিকায় পসেইডন ও বুরেভেস্তনিকের নাম ঘোষণা করেছিলেন।

এখন আবারও এসব অস্ত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনায় পুতিন। কিন্তু কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক দুই অস্ত্র নিয়ে পুতিনের ঘোষণা যতটা না নতুন, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক।

কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে বাগে আনতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে গেছে।

হাঙ্গেরিতে নির্ধারিত ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ বৈঠকও হঠাৎ স্থগিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এতটাই ভিন্ন যে, এ বৈঠকে কোনও ফল হত না। তাই ট্রাম্প আর বৈঠকে বসতে চাননি।

হাঙ্গেরির বৈঠক না হওয়ার পর ট্রাম্প রাশিয়ার দুটি বড় তেল কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে পুতিন হয়ত ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই নতুন অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া-বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্যালিওটি বলেন, ট্রাম্প কখনও ইউক্রেইনের প্রতি কঠোর হচ্ছেন, আবার কখনও সমর্থন দিচ্ছেন কিংবা কখনও রাশিয়ার প্রতি সহানুভুতিশীলও হচ্ছেন। তার এমন দোলাচালে পুতিনের এই অস্ত্রগুলো দেখানোর মানে হল শক্তি জাহির করা, যাতে ট্রাম্পের মাথায় থাকে, যে রাশিয়া আসলেই শক্তিশালী।

ওদিকে, আরেকটি বিষয় হচ্ছে- ইউক্রেইন যুদ্ধক্ষেত্র। ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সাড়ে তিন বছরেও বড় কোনও সাফল্য অর্জন করতে পারেনি রুশ সেনারা। বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরও শিগগিরই কোনও যুগান্তকরী সাফল্য আসার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ম্যাকেঞ্জি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস এর গোয়েন্দা প্রধান ডেভিড হিথকোট বিবিসি-কে বলেন, “গ্রীষ্মকালীন যুদ্ধ মৌসুমের শেষের দিকে এসে রাশিয়ার পরিস্থিতি ভাল না। তাই রাশিয়ার পসেইডন এবং বুরেভেস্তনিক অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণাকে তাদের প্রচলিত সেনাশক্তির দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা উচিত।”

রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সামরিক জোটের অংশ নয়, যে তারা পিছু হটার মতো অবস্থানে পড়লে জোট তাদেরকে রক্ষায় কাজ করবে। আর রাশিয়ার সেনাবাহিনী এখন ইউক্রেইন যুদ্ধে চাপের মধ্যেও আছে।

ডেভিড হিথকোটের মতে, “এসব ক্ষেত্রে রাশিয়া বরাবরই অপ্রয়োজনীয় ও অতিরঞ্জিত সামরিক হুমকি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।”

পুতিনের এমন হুমকিতে অবশ্য কাজও হয়েছে। ৩৩ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেনাবাহিনীকে আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “যেহেতু অন্যরাও পরীক্ষা চালাচ্ছে, আমাদেরও পরীক্ষা চালানো উচিত।” যদিও এতদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পরীক্ষা শুরু করতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।

ট্রাম্পের এই নির্দেশের পর রাশিয়া দ্রুত প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে। রাশিয়ার অস্ত্র পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে ট্রাম্পকে ঠিকভাবে জানানো হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার অস্ত্র পরীক্ষাগুলোকে ‘কোনওভাবেই পারমাণবিক পরীক্ষা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।’

আবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে কী ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন সে বিষয়েও বিস্তারিত জানাননি।

আইআইএসএস-এর প্রযুক্তি ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার বোলফ্রাস বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি রাশিয়ার বুরেভেস্তনিক পরীক্ষার প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রও এখন একই ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে।

নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মুহিবুর হোসাইন

QR Code

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।

https://bdexpress.news/russia-has-new-nuclear-weapons/

© বিডিএক্সপ্রেস | bdexpress.news | খবর, সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, বিডিনিউজ, বাংলা নিউজ | News, latest news, breaking news | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ২৯-০৪-২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ণ